ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলায় ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের হজ শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের তিন কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর শেষ কর্মদিবসের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
উপদেষ্টা জানান, হজের খরচ কমাতে মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ্যোগ ও কার্যকর দরকষাকষির ফলে এই সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমান ভাড়া কমানো এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন পরিষেবা ফি মওকুফ করার ফলে সাধারণ হাজিদের ব্যয়ের বোঝা লাঘব হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, গত দুই বছরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হজের বিমান ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে তা কমে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ বছর সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা হারাম শরীফ থেকে ১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আগে ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ার কথা ছিল। এতে হাজিদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছরের নীতি বজায় রেখে এ বছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে পাঠানো হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোতে হজ এজেন্সিগুলোর অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যা সৌদি আরবে আটকা পড়ে ছিল, তা বর্তমান প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতায় দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্টদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকারি হাজিদের উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
হজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনের নিয়োগ সম্পন্ন করার কথা জানান উপদেষ্টা। মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আরও ১৯৭ জনের নিয়োগ স্থগিত থাকলেও তা দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে ড. খালিদ হোসেন বলেন, “বিগত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল, তা পূরণ করতে পারা আমাদের অন্যতম বড় অর্জন।”