আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য: নিয়ত নিশ্চিত করে যে, ব্যক্তিটি কেবল লোকদেখানো নয় বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই উপবাস পালন করছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা: বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী, “প্রত্যেক কাজের ফলাফল তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারী: ১)।
ফরজ ও নফলের স্বাতন্ত্র্য: নিয়তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় আপনি ওইদিন ফরজ (রমজান), মানত নাকি নফল রোজা রাখছেন।
২. নফল রোজার নিয়ত করার নিয়ম
নফল রোজার নিয়ত ফরজ রোজার চেয়ে কিছুটা শিথিল। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো নিম্নরূপ:
সময়সীমা
ফরজ রোজার ক্ষেত্রে সুবহে সাদিকের আগেই নিয়ত করা জরুরি, তবে নফল রোজার নিয়ত দিনের বেলাতেও করা যায়। যদি কেউ সুবহে সাদিকের পর থেকে দুপুর (যাওয়াল) পর্যন্ত কিছু না খেয়ে থাকে এবং রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ না করে, তবে সে ওই সময় নফল রোজার নিয়ত করতে পারে।
মৌখিক না কি মানসিক?
নিয়ত মূলত মনের ব্যাপার। অর্থাৎ অন্তরে এই সংকল্প থাকাই যথেষ্ট যে “আমি আজ নফল রোজা রাখছি।” মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে কেউ চাইলে নিজের ভাষায় বলতে পারেন।
নফল রোজার আরবি নিয়ত (ঐচ্ছিক)
যদি কেউ মুখে আরবিতে নিয়ত বলতে পছন্দ করেন, তবে তা এভাবে বলা যায়:
نَوَيْتُ اَنْ اَصُوْمَ غَدًا صَوْمَ النَّفْلِ للهِ تَعَالىٰ
(নাওয়াইতু আন আসুমা গদান সাওমান নাফলি লিল্লাাহি তা‘আলা)
অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল (অথবা আজ) নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি।
৩. গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট (যাচাইকৃত)
ভুল সংশোধনী: অনেকেই মনে করেন সাহরি না খেলে রোজা হবে না বা নিয়ত অপূর্ণ থাকবে। এটি সঠিক নয়। সাহরি খাওয়া সুন্নাত, কিন্তু সাহরি খেতে না পারলেও মনে রোজার ইচ্ছা থাকলে রোজা হয়ে যাবে।
মৌখিক উচ্চারণ: নিয়ত মুখে উচ্চারণ করাকে অনেক আলেম উত্তম বললেও তা শর্ত নয়। মনে মনে পরিকল্পনা থাকাই মূল নিয়ত।
নফল রোজা ভাঙার নিয়ম: কোনো ব্যক্তি নফল রোজা শুরু করার পর যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে তা ভেঙে ফেলে, তবে পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা করা আবশ্যক (ওয়াজিব) হয়ে যায়।