নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালতে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বিস্ফোরক মামলার শুনানিতে সাবেক সেনাকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পেছনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, নতুন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম সাক্ষী সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জাহিদি তার সাক্ষ্যে শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ভূমিকা নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর মোকাররম আহম্মেদ। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায়ে শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম বারবার উঠে আসায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত সেই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত ইতোমধ্যে ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, হত্যা মামলায় খালাস পাওয়ার পরও প্রায় এক যুগ ধরে দ্বিতীয় এই মামলার কারণে অনেক বিডিআর সদস্য কারাভোগ করছেন। বর্তমানে এই মামলায় প্রায় ১,২০০ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।