ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ও ধারাবাহিক সামরিক হামলায় দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দক্ষিণ ইরানের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় অন্তত ৪০ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানি সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই হামলায় সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, মিনাবের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০। তবে রয়টার্স প্রাথমিকভাবে ২৪ জন ছাত্রীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। হামলার পর ওই এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন কি না। তবে ওই কর্মকর্তা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। খামেনি নিরাপদ আছেন কি না—সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার খবর এলো। জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের নিহতের খবর স্বীকার করা হলেও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শোক বা কড়া হুঁশিয়ারি সংবলিত পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি আসেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি-র মতো শক্তিশালী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু এবং স্কুলের শিশুদের ওপর এই হামলার ঘটনা তেহরানকে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।