নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে চরম নাটকীয়তা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিলেও অব্যাহত হামলার মুখে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বর্তমান জরুরি অবস্থা সামাল দিতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। সাধারণত ইরানের সংবিধানে পরবর্তী নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ওপর ন্যস্ত থাকলেও, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের অধিবেশন ডাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে নজিরবিহীন বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কমান্ড চেইন বা আদেশ প্রদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ জটিল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার ভয়ে অনেক সামরিক কমান্ডার এবং নিম্নপদস্থ সদস্য নিজ নিজ ঘাঁটিতে রিপোর্ট করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিশেষ করে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাহিনীর ভেতরে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, রোববার সকালে দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশটির সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে পারে। এই গণজমায়েত বা বিক্ষোভ মোকাবিলা করা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আইআরজিসির অবশিষ্ট কমান্ড কাঠামো চাচ্ছিল রোববার ভোরের আগেই পরবর্তী নেতার নাম ঘোষণা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে। তবে নেতৃত্ব পরিষদ গঠন এবং সামরিক অনীহার কারণে সেই প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।