সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জমিজমা নিয়ে মানুষের মধ্যকার বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে সেই বিরোধের জেরে অবুঝ প্রাণীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের এক বিরল ও মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেল সুনামগঞ্জে। আপন ছোট ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে তার পালিত দুটি মোরগের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এর আগে ১৮টি মুরগির বাচ্চাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও করা হয়েছে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর থানায় দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। ভুক্তভোগী আঙ্গুর মিয়া তাঁর পঙ্গু হয়ে যাওয়া দুটি মোরগ হাতে নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়েছেন বিচার চাইতে। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নারায়ণতলা খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়ার সঙ্গে তাঁর বড় ভাই আব্দুর রজ্জাকের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই ক্ষোভ মেটাতে বড় ভাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আঙ্গুর মিয়ার পোষা দুটি মোরগের পা ভেঙে দিয়েছেন।
আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “জমি নিয়ে আমার সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু এই অবুঝ প্রাণীগুলোর দোষ কী? তারা তো আর জমি চায়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও আব্দুর রজ্জাক একইভাবে তাঁর ১৮টি মুরগির বাচ্চাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন।
সাধারণত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে থানায় অভিযোগ এলেও, প্রাণীর ওপর এমন নৃশংসতার বিচার চাইতে সরাসরি মোরগ নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার ঘটনাটি পুলিশকেও অবাক করেছে। সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন সেখ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রাণীর ওপর এমন নৃশংসতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্তের জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই নিষ্ঠুরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। পারিবারিক বিবাদের জেরে নিরীহ প্রাণীর ওপর এমন পাশবিকতাকে অমানবিক হিসেবে বর্ণনা করছেন অনেকেই।