নওগাঁ সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের অভিযানের সময় আব্দুল হামিদ (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আসামি না হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে মারধর করার পর তিনি মারা যান। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে হৃদরোগজনিত মৃত্যু বলে দাবি করছে।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত আব্দুল হামিদের স্বজনদের দাবি, তার ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে থাকা একটি ওয়ারেন্ট তামিল করতে রাতে মহাদেবপুর থানার পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় পুলিশ জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে আব্দুল হামিদকে হাতকড়া পরিয়ে বাইরে টেনে নিয়ে আসে। নিহতের নাতি ১১ বছরের শিশু রিপন জানায়, তার দাদা পুলিশকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে পা জড়িয়ে ধরলে পুলিশ তাকে লাথি মারে। এর পরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তবে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম মারধরের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “পুলিশ আব্দুল হামিদের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছিল এবং তিনি সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ সেখান থেকে চলে আসার কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সম্ভবত তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।”
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মরদেহ বাড়িতেই ছিল এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নিহতের বড় ছেলে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে থানায় একটি লিখিত আবেদন জমা দেন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চান।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।