কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুড়িগ্রামে এক যুবকের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে দুই নারীর অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক আপেল মাহমুদ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায়। সেখানে আপেল মাহমুদের বাড়িতে ঢাকা থেকে আসা শারমিন আক্তার এবং কুমিল্লা থেকে আসা হোসনে আরা নামের দুই নারী রোববার থেকে অবস্থান করছেন। তারা দুজনই আপেল মাহমুদের স্ত্রী বলে দাবি করে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও তাদের সন্তানদের পিতার স্বীকৃতি দাবি করছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শারমিন আক্তারের সঙ্গে প্রায় আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে হোসনে আরার সঙ্গে রয়েছে ১৬ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান। দুই নারীই দাবি করছেন, আপেল মাহমুদ তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
শারমিন আক্তার বলেন, তিনি স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওই বাড়িতেই অবস্থান করবেন। অন্যদিকে হোসনে আরাও একই দাবি জানিয়ে বলেন, স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
হোসনে আরার দাবি, ২০১৩ সালে কুমিল্লায় পড়াশোনার সময় আপেল মাহমুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিয়ে করেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে আপেল মাহমুদ আরও এক নারীকে বিয়ে করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের ভিড় বাড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে ঘটনার পর থেকে আপেল মাহমুদকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা হয়েছে, তবে এখনো এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।