নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবনে মধু আহরণ কার্যক্রমকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার পহেলা এপ্রিল উপজেলার ৭১নং বুড়িগোয়ালিনী ফরেষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজিত মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যু নির্মুলে বিশেষ অভিযানেরও উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বৈধভাবে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে অচিরেই দস্যুমুক্ত করা হবে। এছাড়া জলদস্যুদের সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীলদের বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যুদের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছে। যা মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের মধু একটি একটি ইউনিক জিনিসি, এর সুনাম নষ্ট করবেন না। মধুতে যেন ভেজাল মিশানো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা মধু ব্যবসার সাথে জড়িত আগে তাদেরকে সৎ হতে হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মধুর ব্রান্ডিং করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তবে তার আগে সুন্দরবনের মধুর প্রতি আস্থা তৈরী করতে হবে। এছাড়া সুন্দরবন বন্ধের সময়ে জেলেরা যেন সরকারি সহায়তা পায় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি তিনি কৃষকের পাশাপাশি বনজীবীদের জেলে কোটায় সহায়তা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
পর্যটন শিল্প নিয়ে তিনি বলেন, পর্যটন বিকাশে কাজ করতে হলে আগে স্থানীয়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যটকরা আসার আগে জলদস্যুতা মুক্ত করা না হলে পর্যটকরা ভীত হলে আসতে অনাগ্রহ দেখাবে।
সভায় অপরাপর বক্তারা জানান, সেই ১৮৬০ সাল থেকে মধু সংগ্রহ চলছে। অপরিপক্ক মধু যেমন সংগ্রহ করা যাবে না তেমনি মধুর ড্রামে যেন লবন পানি প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জিআই স্বীকৃতি লাভ করায় তার গুনগত মান রক্ষার পাশাপাশি মধুতে যেন ভেজাল না মিশানো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর জন্য তারা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীর -৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, র্যাব এর সিও লেঃ কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান, জেলা বিএনপি আহবায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, যুগ্ম-আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহেদ, সোলায়মান কবির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।