ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান। বাণীতে বলা হয়, ৭ এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে, যার এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারণা বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাণীতে আরও জানানো হয়, দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু, স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন এবং চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে সংস্কার কার্যক্রম নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ ও সবল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোর সফলতা কামনা করেন।