মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবা উদ্ধারকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও গোপন লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মহাসড়কে লোহাগাড়া থানার এসআই জাহেদুল ইসলাম ও এসআই মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার পিস। এ সময় টেকনাফের হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা খলিল আহমদের ছেলে আব্দুল ছাত্তারকে আটক করা হয়, যিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে বড় মাদক কারবারী আলী হোসেনের ভাড়াটে বাহক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে ঘটনাটির মোড় ঘুরে যায় থানায় নেওয়ার পরই। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত উদ্ধার হওয়া বিপুল ইয়াবার পরিমাণ গোপন রেখে মামলার এজাহারে মাত্র ৪শ’ পিস উল্লেখ করা হয়, যা একটি গুরুতর অপরাধকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল মামলায় রূপ দেওয়ার শামিল। এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাত ও মাদক বাণিজ্যে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঘটনার পাঁচ দিন পর এক যুবক সাদা-কালো শার্ট ও মুখে মাস্ক পরে থানায় প্রবেশ করে সরাসরি তার কক্ষে গিয়ে একটি কালো ব্যাগ তুলে দেয়, যাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিল বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থ ইয়াবা পাচার সংক্রান্ত লেনদেনের অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলার সময়, স্থান ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করেও একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
বিষয়টি নিয়ে লোহাগাড়া থানার ওসি আব্দুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। অন্যদিকে অভিযুক্ত এসআই জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মাদক কারবারীদের সঙ্গে আঁতাত করে দুর্বল মামলা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের একটি প্রবণতা এখানে কাজ করতে পারে, যা প্রমাণিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবে। পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।