প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের মোংলা উপকূল ও সুন্দরবন এলাকায় দস্যু দমনে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে যৌথ নিরাপত্তা অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড’ ও ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’। দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চলমান অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, যা সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের উদ্ধার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকার ফাঁদ এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া অবৈধ মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দের তথ্যও জানানো হয়।
সাঁড়াশি অভিযানের আওতায় হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমেছে এবং জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, বন বিভাগের আরও সমন্বিত সহযোগিতা পাওয়া গেলে অভিযান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।
নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।