মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় একটি মাদ্রাসা থেকে এক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্যজনক মৃত্যু—তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলুরঘাট রোডে টিএনটি অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত নিশান প্লাজার ৫ম তলায় “তালিমুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদ্রাসা”র আবাসিক কক্ষ থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষক শিব্বির আহমদ হাসান (৩৪), তিনি হবিগঞ্জ জেলার ছালেহ আহমদের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী জানান, রাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জন মাদ্রাসার আবাসনের একটি কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, কক্ষের এক পাশে তার স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ। তার দাবি, মাদ্রাসার কিছু অর্থ খরচ হয়ে যাওয়ায় তা ফেরত দিতে কর্তৃপক্ষের চাপের কারণেই তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি—মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ মিয়া ও ডা. নজরুল—শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত প্রায় ৭১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তার স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে রাখে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মিয়া ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নিহত শিক্ষক মোবাইল গেমে আসক্ত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত মাসিক টিউশন ফি বাবদ ৭১ হাজার টাকা তিনি জুয়া-জাতীয় গেমে হারিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে হিসাব চাইলে তাকে টাকা ফেরত দিতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে যান।
খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ওসি আবদুল জলিল বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।