ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মত ও পথ ভিন্ন হলেও দেশের স্বার্থে বিরোধ যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” তিনি এ সময় দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ঐতিহাসিক সত্য গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। এ সময় তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের প্রেক্ষাপটও স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক হবে বলে মন্তব্য করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রেক্ষাপটে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামো নিয়ে সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংকট উল্লেখ করে এটিকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে বিলাসিতা ও অপচয় কমানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের সুস্বাস্থ্য ও দেশের জন্য অব্যাহত অবদানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।