নওগাঁ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নওগাঁয় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে নিয়ামতপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। হাবিবুরের বাবা নমির হোসেন ফজরের নামাজ শেষে ঘরের দরজায় রক্ত দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে ভেতরে ঢুকে তাদের নিথর দেহ দেখতে পান। মরদেহগুলো বিছানায় রাখা ছিল এবং চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর দুই শিশুর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের দেয়ালে লেখা ছিল, “নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে,” যা ঘটনার সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত দেয়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পরিবারের আট সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে হাবিবুরের এক বোনও রয়েছেন।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, জমিজমা নিয়ে হাবিবুরের সঙ্গে তার এক বোনের জামাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিক মামলা ও থানায় অভিযোগও রয়েছে। তারা ধারণা করছেন, এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সোমবার রাত আটটার দিকে তিনি চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরেন এবং তার কাছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিল। তবে ঘটনার পর সেই টাকা এবং ঘরের স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।