মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, অফিসে গেলেই “সম্মানি” নামে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কোনো কাজ এগোয় না—যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরকারিভাবে ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি সেবার জন্য নির্ধারিত ফি রয়েছে। নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা কিংবা খাজনা—সবকিছুর জন্যই নির্দিষ্ট সরকারি রেট নির্ধারিত আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই নির্ধারিত ফি’র বাইরে “সম্মানি” নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দালাল ছাড়া সরাসরি কোনো কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কেউ নিজে আবেদন করতে গেলে নানা অজুহাতে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। কখনো বলা হয় নতুন কাগজ প্রয়োজন, কখনো আবার জমা দেওয়া নথি “খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না”—এভাবে হয়রানির এক অন্তহীন চক্রে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নামজারি সম্পন্ন হলেও খতিয়ানে ভুল থেকে যায়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য কলামেও তথ্য উল্লেখ করা হয় না, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। এসব অনিয়মের পেছনে অফিস সহকারী ও তথাকথিত “নাজির” পদবীর কিছু কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, ভূমি অফিসের ভেতরে দালালদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রথমদিকে তাদের সাধারণ সেবাপ্রার্থী মনে হলেও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের অংশ। অভিযোগ রয়েছে, এসব দালালদের মাধ্যমেই মূলত “সম্মানি” লেনদেন সম্পন্ন হয়।
সচেতন মহল বলছে, “সম্মানি” নামে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শুধু দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নির্ভরতার একটি ভুল সংস্কৃতি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, “ভূমি অফিসের সব সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি রয়েছে। এর বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি ‘সম্মানি’ নামে অর্থ দাবি করে, সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সেবাপ্রার্থীদের অনুরোধ করব—নিজে আবেদন করুন, রসিদ ছাড়া কোনো টাকা পরিশোধ করবেন না এবং দালালদের এড়িয়ে চলুন।”
তিনি আরও জানান, অফিসে সেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হবে।
লোহাগাড়া ভূমি অফিসের এই চিত্র শুধু একটি অফিসের সমস্যা নয়—এটি একটি বড় ধরনের সিস্টেমিক চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। তবে সচেতনতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান—নিজের অধিকার জানুন, সরকারি ফি অনুযায়ী সেবা নিন এবং কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনকে না বলুন। তাহলেই “সম্মানি” নামের এই দুর্নীতির সংস্কৃতি একদিন বন্ধ হবে।