মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। তবে স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, অদ্য ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ সাহাবী পাড়া, পশ্চিম হাজারবিঘা কুইরগা এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা এনএসআই, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য ও অংশগ্রহণে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৫৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে জব্দকৃত ইয়াবা ও আটককৃতরা লোহাগাড়া থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
আটককৃতরা হলেন—আরিফুল ইসলাম (২৬), পিতা: মোহাম্মদ আলী; মোহাম্মদ তাসিন (২০), পিতা: আহমদ হোসেন; এবং মোঃ মামুন (১৮), পিতা: আবু সালেক। তাদের সকলের বাড়ি সাহাবী পাড়া, পশ্চিম হাজারবিঘা, ৭নং ওয়ার্ড, আমিরাবাদ ইউনিয়ন, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে ওমর ফারুক (৩২) নামে এক ব্যক্তির নাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আটককৃতদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত রাত থেকে তার কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার খবর স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী আটককৃতদের প্রাথমিকভাবে আটকে রাখে এবং ওমর ফারুককে ঘটনাস্থলে আসার জন্য খবর দেয়। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জেলা এনএসআই, চট্টগ্রাম কার্যালয়কে অবহিত করা হলে থানা পুলিশকে অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় শাহাদাত নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে দাবি করেন, প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সামাজিকভাবে ‘রাজ সাক্ষী’ ছিল এবং প্রকৃত হোতা এখনও বাইরে রয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় পুরো ঘটনাটি রহস্যাবৃত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হোক।