মনির আহমদ আজাদ।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইতিহাসের কিছু মানুষ মৃত্যুর মধ্য দিয়েও শেষ হয়ে যান না; বরং সময়ের প্রবাহে তাঁরা পরিণত হন একটি আদর্শ, একটি প্রতীক কিংবা একটি প্রতিরোধের ভাষায়। মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লা খোমেনীর নেতৃত্ব ঠিক এমনই এক রাজনৈতিক ও আদর্শিক অধ্যায়, যার প্রভাব কেবল একটি রাষ্ট্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি থেকেও ইরান যে রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, তা বিশ্বরাজনীতিতে একটি আলোচিত বাস্তবতা। সমর্থকদের মতে, আত্মনির্ভরতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান—এই কয়েকটি বিষয় ইরানকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে ইরানের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের প্রকাশ্য অবস্থানের কারণে। কেউ সেই নীতিকে সমর্থন করেন, কেউ সমালোচনা করেন; কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আপনি বলুন, হে আল্লাহ! রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:২৬)। এই আয়াত অনেক বিশ্বাসীর কাছে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সম্মান ও মর্যাদার চূড়ান্ত ফয়সালা মানুষের নয়, মহান আল্লাহর হাতে।
একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারে। ক্ষমতা, প্রাসাদ কিংবা পদমর্যাদা একদিন বিলীন হয়ে যায়; কিন্তু আদর্শ, সাহস এবং আত্মত্যাগের গল্প মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে। ইতিহাসে এমন বহু নেতার নাম রয়েছে, যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁদের প্রভাব অস্বীকার করা যায়নি।
আজকের বিশ্বে মুসলিম সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—ঐক্য, আত্মনির্ভরতা, জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, অর্থনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়তা। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু বিভক্তি যেন শত্রুর শক্তিতে পরিণত না হয়—এ শিক্ষা ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মানুষ চলে যায়, কিন্তু কর্ম থেকে যায়। পৃথিবীর প্রতিটি শাসকই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। তবে ইতিহাস কেবল তাঁদেরই স্মরণে রাখে, যাঁরা নিজেদের বিশ্বাস, আদর্শ কিংবা জাতির জন্য এমন কিছু রেখে যান, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোচনায় থাকে। সেই কারণেই কোনো কোনো নেতা কেবল একটি দেশের নন; তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি যুগের রাজনৈতিক প্রতীক, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইতিহাসের স্থায়ী চরিত্র।