বিলাল হোসেন মাহিনী
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বৃক্ষ রোপনের এই সুবর্ন সময়ে আসুন ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা-জেলাসহ সারাদেশে গাছ লাগানোর উৎসবে মেতে উঠি।
গাছ লাগানো সওয়াবের কাজ। বৃক্ষ রোপণ সদকায়ে জারিয়াহ। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সব সময়ই বৃক্ষ রোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণীত করতেন। তিনি গাছের সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন নেয়ার উপদেশ দিতেন।
চার খলিফা যথাক্রমে হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব বিবেচনা করে সকলকে বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং গাছের উপকারিতা বর্ণনা করতেন।
হাদিস শরীফে এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৩২০, মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৩/১২)
হাদিসে আরও স্পষ্ট করে অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে তা ফলদার হওয়া পর্যন্ত তার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে ধৈর্য ধারণ করে, তার প্রতিটি ফল যা নষ্ট হয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সদকার নেকি দেবেন।’ (মুসনাদ আহমাদ: ১৬৭০২)
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে জন্মান শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১১)
আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে নির্দেশ দিয়ে মহানবী সা. বলেছেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে কিয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, যা রোপণ করা যায়, তবে সেই চারাটি রোপণ করবে।’ (বুখারি, আদাবুল মুফরাদ: ৪৭৯; মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ৩/১৮৩)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে [যে গাছ মানুষের উপকার করতো], আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৬/১৪০)
তাই আসুন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কমপক্ষে একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাই।
বিলাল মাহিনী
কবি ও সাংবাদিক
সহকারী অধ্যাপক : গাজীপুর রউফিয়া কামিল মাদরাসা,