রকি হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
শনিবার (২২ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের ইটনা সদরে কোনো প্রকার এমবিবিএস ডিগ্রি বা চিকিৎসা সনদ ছাড়াই দীর্ঘ ২০ বছর ধরে রোগী দেখে আসছেন আবুল কাশেম (৬০) নামে এক ব্যক্তি। কোনো প্যাড বা সিল-স্বাক্ষর ছাড়াই সাধারণ সাদা কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে তিনি নবজাতক থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবুল কাশেমের চেম্বারে প্রতিদিন রোগীদের দীর্ঘ সারি থাকে। তিনি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভিজিটে নাক, কান, গলা ও চোখের মতো স্পর্শকাতর অঙ্গের চিকিৎসা প্রদান করেন। তার ভুল চিকিৎসায় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাদের ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আবুল কাশেম মূলত ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন প্রাক্তন স্বাস্থ্য সহকারী। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থাতেই তিনি চেম্বার খুলে রোগী দেখা শুরু করেন এবং অবসরের পরও এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাসোয়ারা দিয়ে এবং হাসপাতালের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি এই বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন।
নিজের অপরাধ স্বীকার করে আবুল কাশেম বলেন, “আমি এইচএসসি পাস, আমার কোনো মেডিকেল ডিগ্রি বা সনদ নেই। কোনো প্রকার ঔষধ প্রেসক্রাইব করার আইনগত ক্ষমতাও আমার নেই। আমি যা করছি তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতিশ দাস রাজীব বলেন, “তিনি দীর্ঘদিন এই হাসপাতালে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সুযোগেই হয়তো রোগী দেখছেন। ইটনায় ভালো ডাক্তারের তীব্র সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীরা তার কাছে যান।”
কিশোরগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমেই আমরা ইটনার এই ভুয়া ডাক্তারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। সনদ ছাড়া প্রেসক্রিপশন লেখা বা রোগী দেখার মতো লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”