মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের যানজট নিরসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় পটিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় চারটি বাইপাস এবং কেরানীহাটে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত চারটি বাইপাসের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এসব বাইপাস নির্মাণ করা হলে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে দ্রুত যান চলাচল নিশ্চিত হবে। এছাড়া কেরানীহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে যানজট নিরসনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রকল্পের আওতায়।
বর্তমানে পটিয়া, কেরানীহাট, দোহাজারী, লোহাগাড়া ও চকরিয়া এলাকায় বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ ও সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ির কারণে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়। পর্যটন মৌসুম ও ছুটির দিনে এই ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। জাইকার সহায়তায় পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়ানো ও সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্টরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হওয়া বা যাতায়াতের সময় আড়াই ঘণ্টায় নেমে আসার যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও অনুমোদিত নথির ভিত্তিতেই এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলে যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মহাসড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গণপরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে।