নিউজ ডেস্ক
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | সন্ধ্যা ৭:৩৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে এই বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ বাড়তি বেতন পাবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোয় নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, তাই এই সময়ের বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া অন্যান্য সব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাওয়া যাবে এবং পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন কাঠামোর যাবতীয় সুবিধা পাবেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।