শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
সরকারি বিধি নিষেধ আর প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইটভাটার মাটি, বালু ও ইট বহনকারী ডাম্পার, ট্রাক্টর (টলি) ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে সড়ক, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। হচ্ছে শব্দদূষণ। বাতাসে ওড়া ধুলাবালুর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। বাড়ছে ঝুঁকি। পৌর এলাকা সহ গ্রামীণ সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোন পদক্ষেপ অভিযোগ জনগনের। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফিটনেসহীন শতাধিক ডাম্পার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বেপরোয়া গতিতে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লেখক, গবেষক পীযুষ বাউলিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ ডাম্পার, ট্রাক্টর, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির বিকট শব্দ ও ধোয়ার কারণে পরিবেশের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের এসব গাড়ির চলার কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা পাকা রাস্তার পিচ উঠে রাস্তা খানাখন্দে পরিনত হচ্ছে। এছাড়াও এসব গাড়িতে করে মাটি সরবরাহের করণে রাস্তার ওপর মাটি পড়ছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলে পিচের রাস্তা কাদা রাস্তায় পরিনত হচ্ছে। বাড়ছে জনদুর্ভোগসহ দুর্ঘটনা। এসব যানবাহন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তার পরেও এসব গাড়ির চালকের ভূমিকায় দেখা যায় অল্প বয়সী তরুণ সহ শিশুদের। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ খুবই জরুরি।
উপজেলার সোনারমোড় এলাকার আব্দুল গফফার ও শিশির মোড়ল জানান অপরিপক্ক চালকের হাতে ডাম্পারের ‘স্টিয়ারিং’ তুলে দেয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে সোনারমোড় এলাকায় একটি ডাম্পার ট্রাকের চাকা খুলে নানীর সাথে বাড়িতে ফিরতে থাকা এক শিশু ঘটনাস্থলে নিহত হন। তাদের অভিযোগ গ্রামীণ সড়কে ডাম্পার ট্রাক চালানোর সুযোগ নেই। অথচ ইট ভাটা মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে ব্যস্ততম সড়কে ডাম্পার চালানো অব্যাহত রেখেছে।
গোমনতলী গ্রামের আকবর আলী গাজী জানান ইট ভাটা মালিক বেলাল সাহেব গত চার মাস ধরে গোমনতলী এলাকা থেকে চিংড়িঘের থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তার ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এসময় উক্ত মাটি পরিবহনের কাজে তিনি পাঁচ/ছয়টি ডাম্পার ব্যবহার করেন। তবে ডাম্পার ট্রাক চলাচলে কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকলে গ্রামবাসীরা বাধা দেন। এসময় বেলাল সাহেব তাদেরকে চাঁদাবাজির মামলার আসামী করার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশী সময় ধরে একই সড়কে ডাম্পার ট্রাক পরিচালনা করে উক্ত সড়কের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। ডাম্পার চলাচলের কারনে যাতায়াতের জন্য ব্যস্ততম সড়কগুলোতে নানা ধরনের যানযট সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নবিন কুমার ও ঈশ্বরীপুর গ্রামের এক তরুণ জানান তাদের ঈশ্বরীপুর এ সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ডাম্পার ট্রাক বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকছে। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও কোনভাবে তাদের বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে ডাম্পার চলাচল আটকানো যাচ্ছে না। প্রায় একই ধরনের কথা জানান হাটচালা গ্রামের আব্দুর রহিম ও বাদশাসহ কয়েকজন গ্রামবাসী।
তাদের অভিযোগ সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রতি বছর রাস্তা তৈরী করলেও ডাম্পারের কারণে বছর ঘুরতেই একই সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ইট ভাটা মালিকদের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে রাতদিন সার্বক্ষনিক ডাম্পার ট্রাক চলাচলে সহযোগীতা করছেন বলেও তাদের অভিযোগ। এমতাবস্থায় তারা গ্রামীণ ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ ডাম্পার চলাচল বন্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন জানান মানুষের যানমালের জন্য ঝুঁকি তৈরী হয় এমন কোন কাজ কেউ করতে পারবে না। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে- উল্লেখ করে তিনি বলেন নীতিমালার বাইরে যেয়ে সড়কে ডাম্পার চললে প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।