নিজস্ব প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনা শ্রী শ্রী যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে দীপাবলি ও কালীপূজা। প্রতি বছরের মতোই এ বছরও হাজারো ভক্ত-অনুরাগী মন্দির প্রাঙ্গণে একত্রিত হন মাতৃ আরাধনায় অংশ নিতে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সন্ধ্যায়, প্রথা অনুযায়ী প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এরপর চলে মায়ের আরতি, চণ্ডীপাঠ, এবং কীর্তন। ভক্তরা শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে মায়ের চরণে নিবেদন করেন পুষ্প, প্রসাদ ও নানান উপহার।
মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বৈদ্যুতিক আলো ও রঙিন আলোকসজ্জায়। ছোট-বড় নানা বয়সী নারী-পুরুষ, এমনকি বিভিন্ন জাতি-ধর্মের দর্শনার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন এই মিলনমেলায়। ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা বজায় রেখেই পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও উপজেলার ধানখালী মায়ের বাড়ি, মুন্সিগঞ্জ ফুলতলা, দুর্গাবাটি, নূরনগর, সোনামুগারিতে শ্যামাকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
যশোরেশ্বরী কালীমন্দির সহ বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও সাতক্ষীরা ৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডক্টর মনিরুজ্জামান মনির, সদ্য সাবেক শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সোলায়মান কবিরসহ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির একটি ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন শক্তিপীঠ, যার গুরুত্ব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অপরিসীম। এখানে প্রতিবছর কালীপূজা ও দীপাবলিতে হাজারো ভক্তের সমাগম হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণভাবে পূজার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি। এই উৎসব কেবল ধর্মীয় চেতনাই নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর কাছে।