কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরকীয়ার ঘটনা এবং থানায় অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রতিপক্ষের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই হামলায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের শরীরে গুলির জখম রয়েছে।
গুলিবিদ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় শিহাব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর নামে এক স্বজন দৌলতপুর থানায় শিহাবের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই অভিযোগের জের ধরে সোমবার দুপুরে মিজানুরকে একা পেয়ে মারধর শুরু করেন শিহাব ও তাঁর সহযোগীরা।
মিজানুরকে বাঁচাতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শিহাবের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে শিহাবের ছোড়া গুলিতে আনিছুর রহমান, নওয়াব আলী ও আশরাফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে জাহিদুল ও সিদ্দিকসহ আরও চারজন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বাকিদের দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পর ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিবিসি বাংলার আদলে দেওয়া বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিহাব এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।