মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটি চক্রের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র” নাম ব্যবহারকারী এই চক্র চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে। প্রথমে প্রসেসিং ফি, পরে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও অন্যান্য খাতে অর্থ গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ, মেডিকেল সরঞ্জাম কিংবা ল্যাপটপ প্রদান করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, টাকা ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্টরা উল্টো অশালীন ও দুর্ব্যবহারমূলক কথা বলেন এবং যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন।
এ ঘটনায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো চাকরি প্রত্যাশী এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন। “MSK Health Project-Dhaka” নামের একটি ফেসবুক পেইজ ও কথিত “উপজেলা মা ও শিশু কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র” এর ব্যানারে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে কমিউনিটি ম্যানেজার (১৪০ জন, বেতন ৩০,৭০০ টাকা), ইউনিয়ন পরিবীক্ষক (১৭০ জন, বেতন ২৮,৫০০ টাকা), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (২৫০ জন, বেতন ২৬,৮০০ টাকা), অফিস সহকারী (১৮০ জন, বেতন ২১,০০০ টাকা) এবং সেবক/টেকনিক্যাল (২৮০ জন, বেতন ১৯,০০০ টাকা) পদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনে কথিত সরকারি অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে আবেদন পাঠাতে বলা হয় একটি ইমেইল ঠিকানায়।
আবেদনকারীদের সঙ্গে 01730-526334, 01766-565494 ও 01834-244291 নম্বর থেকে যোগাযোগ করে প্রথমে “প্রসেসিং ফি” হিসেবে ৬৭৫ টাকা একটি বিকাশ নম্বরে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া নিয়োগপত্র ও ফরম পাঠিয়ে “মেডিকেল ইকুইপমেন্ট” বাবদ ৪,৭৫০ টাকা এবং “যৌথ ব্যাংক একাউন্ট খোলার” নামে ১,০৫০ টাকা—মোট ৫,৮০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা গেলে আর সাড়া পাওয়া যায় না এবং ঘোষিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেরও কোনো বাস্তবতা মেলেনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্র; তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।