ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি স্থানীয় আদালত। আগামী ২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালত-এ হাজির করা হলে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে তাদের কারাগারে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে এই দুই আসামি ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে ছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম মাসুদ হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে— এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাকে গুলি করতে দেখা যায়নি এবং পরে ঘটনাস্থলে থাকার কথাও অস্বীকার করেন।
ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে আগে ১৪ ফরেনারস আইনে মামলা ছিল। রোববার নতুন করে ‘আনলফুল এক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ ও ১৮ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়েছিল। পরে হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।