ইরানে নিখোঁজ থাকা এক মার্কিন পাইলটকে অবশেষে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। দুই দিনব্যাপী তীব্র লড়াই ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পর এই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
একজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, বিধ্বস্ত F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হয়। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর ওই পাইলট ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্ধার অভিযানটি শুরু হয় অন্ধকারে এবং শেষ হয় ভোরের আলোতে। এ সময় সেখানে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য পুরুষ না নারী—তা নিশ্চিত করা না গেলেও তাকে ‘এয়ারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে জানানো হয়েছে। এমনকি উদ্ধার হওয়ার পরও কিছু সময় ওই পাইলট এবং উদ্ধারকারী দল বিপদের মুখে ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধারকৃত বিমানসেনা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী এখন নিরাপদে ইরান ত্যাগ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, নিখোঁজ ওই বিমানসেনাকে উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা একজন সম্মানিত কর্নেল এবং বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছেন। যদিও তিনি আহত হয়েছেন, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প আরও জানান, এই অভিযানে সহায়তার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী একাধিক ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিমান মোতায়েন করেছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযানে গেলে মার্কিন বাহিনীর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ওই বিমানে দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। ঘটনার পরপরই একজনকে উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়ে, তবে সেটি ইরানের আকাশসীমার বাইরে যেতে সক্ষম হয়। একই সময় উদ্ধার মিশনে অংশ নেওয়া একটি A-10 Thunderbolt II যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান।