ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বর্ষবরণের এই আয়োজন ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ স্থান পেয়েছে, যা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এর আগে ভোরে রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানট-এর আয়োজনে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়। ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান দিয়ে শুরু হওয়া প্রায় দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয়।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভোর থেকেই রমনার বটমূলে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। অনেকের কাছে এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ। পুরোনো বছরের গ্লানি ও ক্লান্তি ভুলে নতুন বছরের সূচনাকে স্বাগত জানান তারা।
১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট এই বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বিশেষ মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। আয়োজকদের মতে, এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক।
বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি বিশালাকৃতির প্রতিকৃতিগুলো শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এতে অংশ নেওয়া ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করেন এবং ৩৫ জন যন্ত্রশিল্পীর বাঁশি ও দোতারার সুরে বেজে ওঠে ‘এসো হে বৈশাখ’।
সারাদেশেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখ এখন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।