মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- অফিসকে ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সেবায় অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, তার যোগদানের পর থেকেই অফিসটি যেন সেবাকেন্দ্র না হয়ে দালালদের নিয়ন্ত্রিত এক ‘কারখানায়’ পরিণত হয়েছে, যেখানে দালাল ছাড়া সাধারণ গ্রাহকের সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনলাইনে জমা দেওয়া বহু আবেদন “মোবাইল কল রিসিভ করা হয়নি” এই অজুহাতে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অভিযোগ—তারা কোনো ধরনের কলই পাননি। এতে করে ডিজিটাল সেবার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিটার সংক্রান্ত তদন্ত সরেজমিনে গিয়ে করার কথা থাকলেও ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম অফিসে বসেই গ্রাহককে ফোন করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করেই আবেদন বাতিল বা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও জানা গেছে, কোনো গ্রাহক দালালের সাহায্য ছাড়া সরাসরি মিটারের জন্য আবেদন করলে সেটিও বিভিন্ন কৌশলে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা দুর্নীতির পথকে আরও প্রশস্ত করছে।
বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। মাত্র ৩০০ ফুট দূরত্বে খুঁটি স্থাপনের আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে থাকছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কম দূরত্বে খুঁটি বসানোর জন্য ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি দাবি করা হচ্ছে, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী একটি খুঁটি স্বল্প দূরত্বে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। একাধিক খুঁটির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ডিমান্ড নোটের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শত শত গ্রাহকের আবেদন যথাযথ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে বাতিল করা হচ্ছে। ফলে হাজারো গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত এই কর্মকর্তার অপসারণ এবং সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “বিদ্যুৎ সেবা আমাদের মৌলিক প্রয়োজন—এখানে কোনো অনিয়ম বা দালালচক্রের জায়গা থাকতে পারে না।”
দালালচক্রের ছায়ায় লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়মের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রেক্ষাপটে ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলামকে বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে, যা বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।