নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও মুক্তিপণে দাবিতে ৮জন বনজীবীকে জিম্মি করেছে জলদস্যু দলের। সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে বনজীবী অপহরণের ঘটনা যেন থামছেই না। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের জেলে-মৌয়ালরা। গত বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও আট বনজীবীকে অপহরণ করেছে ‘নানাভাই/ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা।
জিম্মি বনজীবীদের কয়েকজন সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এবং তাদের মহাজনদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদে খালের মুখ, গুবদে খালের মুখ, ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে বনজীবীদের অপহরণ করা হয়। তারা আরও জানান, তাদের প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে তুলে নেয় এবং একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলে। মুক্তিপণ হিসেবে প্রত্যকের কাছে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে দাবি করে। টাকা পরিশোধ করলে তার পর তারা জিম্মিদের মুক্তি দিয়ে অন্য বনজীবীদের নৌকায় পাঠিয়ে দেয়।
অপহৃত বনজীবীরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের মীরগাং এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), একই এলাকার আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।
বনজীবীদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনে অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে জিম্মি বনজীবীদের মুক্ত করেছেন। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে এই একই নাম্বারে অগ্রিম চাঁদা পরিশোধ করে মৌয়ালদের সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে যেতে হয়েছে বলেও জানায় বনজীবী ও তাদের মহাজনরা।
জেলে, মৌয়াল ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ কিছু এলাকা এখনও কার্যত দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তারা আরও বলেন, এরা শুধু জেলে মৌয়ালদের অপহরণ করছে না বন্য প্রাণীও শিকার করছে।
এঘটনায় পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম ভাষ্য, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা তাদের স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, গত ৪ ও ৫ মে দুই দিনে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তারা ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণের দিয়ে ছাড়া পায়।