মোঃ মুঞ্জিল ইসলাম মুরাদ, কারমাইকেল কলেজ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬), বিকেল ৫টা ৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সরকারি উদ্যোগের পর রংপুরের কারমাইকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ বাস্তবায়নের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই আইন বাস্তবায়ন অথবা কলেজটির সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ৪৫ নং আইনে কারমাইকেল কলেজকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছিল। ওই আইনে কলেজ বিলুপ্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলের কথা উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই আইন কার্যকর না করে নতুন আইনের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কারমাইকেল কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজ হিসেবেই থেকে যায়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনন্দমোহন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়ার পর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিকায়ন জরুরি।
দাবি ও সংকট
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ২০০৬ সালের আইনের আলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হল নির্মাণ এবং বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি। এছাড়া আধুনিক গবেষণাগার, গ্রন্থাগার স্থাপন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ আধুনিকায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও কারমাইকেল কলেজের জন্য প্রণীত আইন কেন আজও কার্যকর হলো না। তারা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব না হলেও অন্তত উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে দেশের অন্যতম আধুনিক সরকারি কলেজে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত কারমাইকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর বা ২০০৬ সালের আইন পুনরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগের পর শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের এই দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।