নিউজ ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬), রাত ৮টা ৫০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। আজ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় অস্কার বাংলাদেশ কমিটি।
এবার অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। সেখান থেকে কমিটির মূল্যায়ন ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ‘রইদ’ সিনেমাটিকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। বঙ্গ ও ফেসকার্ড প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি এর আগে ভিয়েতনামের চতুর্থ দা নং এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচক বিভাগে সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে চিত্রায়িত ‘রইদ’ চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে দরিদ্র বর্গাচাষি সাদু ও তার স্ত্রীকে ঘিরে। নববিবাহিত দম্পতির জীবন, গ্রামীণ সমাজ এবং বাস্তবতা ও মিথের মিথস্ক্রিয়া এক জাদুবাস্তবতার আবহে সিনেমাটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত এবং আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।
৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ‘রইদ’ নির্বাচিত হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত। আমরা একটি অভিনব গল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের খাঁটি বাংলা সিনেমা বানাতে চেয়েছিলাম।
প্রযোজক ও বঙ্গের চিফ কনটেন্ট অফিসার মুশফিকুর রহমান মঞ্জু বলেন, “শুরু থেকেই আমরা মেজবাউর রহমান সুমনের নিজস্ব নির্মাণশৈলী এবং গল্প বলার শক্তিতে আস্থা রেখেছি। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছে, তাতে আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।”
পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, “আমার সিনেমা অস্কারের মতো বড় একটি মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে জেনে খুব ভালো লাগছে। ‘রইদ’ খুব গভীরভাবে বাংলাদেশের সিনেমা। আমাদের এই অঞ্চলের গল্প, লোককাহিনী ও মানুষের জীবনবোধের ভেতর থেকেই সিনেমাটি উঠে এসেছে।”
এর আগে ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের টাইগার কম্পিটিশনে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। অস্কারের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।