বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। সবার হাতে গাঁদা ফুলের পাপড়ি। বিদায় সংবর্ধনা শেষে বাইরে এলেন তাদের প্রিয় শিক্ষক। তাকে দেখে ছুটে আসেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। কেউ সালাম করেন, কেউ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহুর্তটুকু হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগময়। পরে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে সবার প্রিয় ‘বড় ম্যাম’-কে তুলে দিলেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা যায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে। ২৮ বছর আগে যেখানে শিক্ষক হিসেবে পা রেখেছিলেন নাসরিন আখতার, সেখানেই কেটে গেল তার পুরো কর্মজীবন। টানা দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন তিনি।
এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে অবসরোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক নাসরিন আখতারকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এরপর একে একে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উপহারের ছোট-বড় রঙিন বাক্স তুলে দেন। এ সময় আবেগাপ্লুত নাসরিন আখতার বলেন, ‘কখনো ভাবিনি আমার শিক্ষকতা জীবনে অসাধারণ কোনো কাজ করেছি। সবার ভালোবাসা দেখে মনে হচ্ছে, আমি যা দিয়েছি তার চেয়েও অনেক বেশি পেয়েছি।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম। একাদশ শ্রেণির বৃষ্টি ও তৃষার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আলতাফ হোসেন, জামির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ, কুশল কুমার চক্রবর্তী, জান্নাতুল ফেরদৌস ও ময়না খাতুন, প্রভাষক আবু বক্কার, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মমতাজ পারভীন, বর্তমান শিক্ষার্থী কানিজ সুবর্ণা মুক্তা প্রমুখ।
১৯৯৮ সালে মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন নাসরিন আখতার। কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে দুর্দশা-সংকটকালীন সময় থেকেই সামনের সারিতে ছিলেন। পরম মমতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বহু শিক্ষার্থীকে তিনি গড়েছেন, দিয়েছেন আলোর দিশা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় শিক্ষকতা শেষে বিদায় নিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আখতার। তিনি যশোর শহরের চুড়িপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী নুরুল হোসেন সিদ্দিকী চুন্নু পেশায় একজন আইনজীবী। এই দম্পত্তির একমাত্র ছেলে নামিন সিদ্দিকী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে অধ্যায়নরত ও একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় জুনিয়র সাইন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।