ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সোমবার বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা বিএনপির আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য দেশের দায়িত্ব দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত সংস্কার কমিশনে বিএনপি তাদের প্রস্তাব জমা দেয়। তিনি জানান, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কমিশনের কাজ শেষে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং বিএনপি এই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
তবে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি প্রদান করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচিও পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকার শিগগিরই সুখবর দেবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল সংস্কারের কথা বললেও নারীর অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু সংবিধান নিয়ে আলোচনা করছে, যা তার ভাষায় ‘ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত’।
সমাবেশে তিনি বগুড়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর স্থাপনের আশ্বাস দেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।