মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাহাড়ি অঞ্চলে পানি সংকট ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে রাঙামাটিতে নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাঙামাটি জেলার সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়নে রোববার সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকছড়ি ছড়া ব্রিজ থেকে বড়পাড়া নালা এবং কুতুকছড়ি বাজার থেকে মোনতলা পর্যন্ত মাউরুম খাল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি কৃষকদের দীর্ঘদিনের পানি সংকট দূর করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে একদিকে সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে মৎস্য চাষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি, কুতুকছড়ি, বন্দুকভাঙ্গা ও বালুখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির মাধ্যমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালগুলোর নাব্যতা ও গভীরতা বজায় রাখতে কারিগরি বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু কৃষি নয়, স্থানীয় তরুণদের জন্য মৎস্য চাষ ও সমন্বিত কৃষি খামারের সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় খনন করা হলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে এবং পানি সংকট অনেকটাই কমে যাবে।