নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসরত প্রতিটি মানুষ যাতে দল-মত এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তির সাথে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং মহামতি গৌতম বুদ্ধের ‘পঞ্চশীল নীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন।” তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও অধিকার ভোগ করতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। কেউ যেন নিজেকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে না করেন, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-কে সরকারের মূল রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই দর্শনই দেশের সকল নৃ-গোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করার একমাত্র পথ। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মের মানবিক শিক্ষাগুলো অনুসরণ করেন, তবে একটি প্রকৃত মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে।
সচিবালয়ের এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ও ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।