
মোঃ আব্দুল আউয়াল।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নৈঃশব্দ্যের হাটে পৌঁছে পা দুটো থমকে গেল…
সেখানে ছায়াদের কেনাবেচা চলছিল প্রকাশ্য রোদে…
আমি কাঁপতে কাঁপতে জিজ্ঞেস করলাম,
‘কী মূল্যে বিকোচ্ছে ভাই এই ছায়াগুলো…?’
হাটের পসারি কুটিল হেসে জিজ্ঞেস করল:
‘কোন দৈর্ঘ্যের ছায়াটা মেপে নেবেন আপনি…?’
ক্ষমতার… না দম্ভের…? চাটুকারিতার… না মোহের…?
বলুন আপনি কোনটা চান…?
রঙিন মুখোশের… না সুনিপুণ অভিনয়ের…?
আমি আড়ষ্ট কণ্ঠে বললাম, ‘একটু নিঃস্বার্থ আলো…’
পসারি এবার শূন্য চোখে চেয়ে বলল:
‘এই আলোটুকু আছে বলেই তো অন্ধকার চেনা যায়…’
তবে মাফ করবেন ভাই,,,
এই আলোর কণাটি বিক্রির জন্য নয়…
এর কোনো দাম আপনি দিতে পারবেন না।
আর যেদিন এই আলোটুকুও বিকিয়ে যাবে,
সেদিন মহাবিশ্ব এক অনন্ত কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যাবে।
আমি শূন্য হাতে সেই হাটের কিনারে দাঁড়িয়ে রইলাম…
চারপাশে তখন ছায়াদের দরদাম আরও চড়েছে,
ক্ষমতার ছায়াটা কিনতে মানুষের লাইনে মারামারি,
আর দম্ভের ছায়াটা গায় জড়িয়ে কয়েকজন বুক ফুলিয়ে হাসছে।
আমি পসারির সেই শূন্য চোখের দিকে তাকিয়ে আবার শুধালাম,
‘যদি আলোটুকু বিক্রি না-ই করো ভাই,
তবে এই মরীচিকার হাটে এর পাহারা কেন…?’
পসারি এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবয়বহীন হাসল,
বলল, ‘বিক্রি করি না বলেই তো হাটটা টিকে আছে বাবু…
ঐ আলোর শেষ কণাটুকু যদি নিভে যায়,
তবে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই যে নিজের ছায়ায় নিজেই হারিয়ে যাবে!
কেউ আর কাউকে চিনতে পারবে না,
এমনকি নিজের মুখোশটাও আর খুঁজে পাবে না কেউ।’
আমি চারপাশের সেই অন্ধ ক্রেতাদের দিকে তাকালাম—
তারা কেউ আলোর খোঁজে আসেনি,
তারা এসেছে অন্ধকারকে আরও জমকালো করতে।
আমি পকেট থেকে আমার যৎসামান্য ‘বিবেক’ বের করে বললাম,
‘এর বিনিময়ে কি এক ফোঁটা আলোও দেওয়া যায় না…?’
পসারি আমার হাতের দিকে চেয়ে মৃদু হাসল,
বলল, ‘ওটির চলন তো এই হাটে বহু আগেই বন্ধ হয়েছে ভাই!
ওটা দিয়ে এখানে ছায়াও মিলবে না, আলোও মিলবে না।
তবে ওটা যদি বুকে ধরে রাখতে পারো,
তবে হাট ফুরোলে একদিন নিজের ভেতরেই আলোর সন্ধান পাবে।’
আমি আমার সেই মলিন বিবেকটুকু আবার বুকে জড়িয়ে নিলাম,
ততক্ষণে হাটের প্রকাশ্য রোদ ম্লান হয়ে আসছিল…
আর ছায়ারা একে একে গ্রাস করছিল আস্ত একটা সমাজকে।
আমি হাটের কোলাহল ছেড়ে একাকী হেঁটে চললাম,
অন্তহীন সেই কৃষ্ণগহ্বরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে,
বুকের ভেতর এক চিলতে আলোর চাষ করব বলে।