নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এ এ বিধান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ভরণপোষণের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং পিতা-মাতার সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।
এ আইনে আরও বলা হয়েছে, সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত প্রদান করতে হবে। এছাড়া পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে।
আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী বা অন্য নিকটাত্মীয় ভরণপোষণে বাধা দিলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার মতে, আইনটি শুধু শাস্তির বিধান নয়; বরং সন্তানদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যেও প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ায় অসহায় প্রবীণদের সহায়তায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।