নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে মেগা প্রকল্পের উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে ও ব্লক সরিয়ে অবৈধভাবে বসানো একাধিক (নাইনটি) পাইপ অপসারণ কর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাইপের মাধ্যমে অবৈধভাবে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন করায় উপকূল রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুদুল আলম এর নেতৃত্বে স্থানীয়দের নিয়ে গাবুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পইপ অপসারণ করা হয়।
অপর দিকে, গাবুরা ইউনিয়নের চলমান মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ কেটে ও ব্লক তুলে বসানো অবৈধ পাইপ অপসরণ অপসারণ অভিযান পরিচালনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান চলাকালে বাঁধে বসানো অবৈধ পাইপগুলো খুলে ফেলা হয় এবং কেটে রাখা অংশ পুনরায় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাফিউল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার, ১২ নং গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজ স্বার্থে উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধ (নাইনটি) পাইপ বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘেরে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশনের কাজ করছিলেন। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জোয়ার-ভাটার সময় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিল। উপকূল রক্ষা বাঁধ আমাদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা দেয়। ব্যক্তিস্বার্থে বাঁধ কেটে পাইপ বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
১২ নং গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম বলেন, স্বপ্নের মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে মৎস্যঘেরের মালিকরা যে অবৈধ ‘নাইনটি’ পাইপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করছিলেন, সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে ও হবে। মৎস্যঘের পরিচালনার জন্য বেড়িবাঁধে বিদ্যমান মিনি স্লুইস গেট ও স্লুইস গেট ব্যবহার করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ পাইপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করা যাবে না। ভবিষ্যতে গাবুরায় কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ পাইপ স্থাপন করতে পারবেন না। কেউ যদি প্রভাব খাটিয়ে বা গায়ের জোরে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তি বা ঘের মালিক রাস্তা বা জনসাধারণের চলাচলের পথে অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ পাইপ স্থাপন করেছেন, তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, নিজ নিজ দায়িত্বে দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করুন। এছাড়াও, নদী, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আইন মেনে চলার আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার বলেন, উপকূল রক্ষা বাঁধের কোনো অংশ কেটে পাইপ বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ নতুন করে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কণক বলেন, উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ব্যক্তিস্বার্থে বাঁধ কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ পাইপ বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। এসব পাইপের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে বসানো পাইপ অপসারণের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ যদি পুনরায় বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো বা অন্য কোনোভাবে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকূল রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ পাইপ অপসারণের পাশাপাশি উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।