মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট অভিযানে ধাওয়া শেষে দুইটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক ও দুইটি মোবাইল ফোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি ইউনিয়নের চুনতি রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মাঈন উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নিয়মিত চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেটকারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করে প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে চুনতি সরকারি মহিলা কলেজ গেটের সামনে গতিরোধ করতে সক্ষম হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে পিছনের সিটের নিচে একটি শপিং ব্যাগের ভেতর কালো পলিথিনে মোড়ানো দুইটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহভাজন দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হোসাইন আহম্মেদ (৪২), কক্সবাজার জেলার মাতামুহুরী থানার মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ (২৭) এবং ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মো. আসাদুজ্জামান।
লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও জব্দকৃত আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এগুলো কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সম্ভাব্য অস্ত্র চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।