নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শর্তের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত দুই বছরে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টন। এতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে এবং বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের শত শত শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা।
বেনাপোল বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে তিন হাজার ৩৮টি ট্রাক প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো। বর্তমানে আমদানির সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাকে এবং রপ্তানির সংখ্যা ২০ থেকে ১০০ ট্রাকে নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে নেমেছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে পাট, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল ও মেলামাইন উল্লেখযোগ্য।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ভারত এসব নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার করেনি। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।”
বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। একই বছরের ১৭ মে ভারত সরকার গার্মেন্টস, তুলা, প্লাস্টিক ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ ১১ আগস্ট পাটজাত চার ধরনের পণ্য আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এর বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারও দেশীয় শিল্প রক্ষায় ভারত থেকে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “ভারত বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব। এছাড়া স্থলপথে যেসব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করা জরুরি।”
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। দুদেশের পক্ষ থেকে আরোপিত বিধিনিষেধই বাণিজ্যের এ ধসের মূল কারণ। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”