আহম্মদ আব্দুল্লাহ / ববি প্রতিনিধি
শুক্রবার (১৭ জুলাই), দুপুর ১টা ০৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিজয় ২৪ হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনার নেপথ্যে মেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। গত বুধবার (১৫ জুলাই) ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন রূপাতলী এলাকার একটি মেসের পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিব লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৪ জুলাই রূপাতলীর একটি মেসে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইনামুল হক তার ওপর হামলা চালান। সাকিবের দাবি, তিনি অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ইনামুল ও তার সহযোগীরা তাকে মেস থেকে বের করে দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, রূপাতলী এলাকার ওই মেসটি ‘শিবির নিয়ন্ত্রিত’ হিসেবে পরিচিত।
পরদিন ১৫ জুলাই বিজয় ২৪ হলে ঘটনার সমঝোতার উদ্যোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন। তবে সেখানে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইনামুল হকের দাবি, মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে ইতিহাস বিভাগের সৌরভ ও সাকিবের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন তার ওপর হামলা চালায়।
হামলার অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি ভিত্তিহীন। আমি মূলত পূর্বের রাতে মেসে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যেই দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম। আমি হলের অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলি। এর মধ্যেই হলের বাইরে ইতিহাস বিভাগের কিছু ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ইনামুলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়।”
ঘটনাটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও আকস্মিক। প্রথমে বাংলা বিভাগের ওই শিক্ষার্থী মেসে নিয়ে ইতিহাসের এক শিক্ষার্থীকে মেরেছিল। সেই ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে হলের ভেতরে ইতিহাস বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। যারা এই বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ উল ইসলাম এ কথা জানান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “উভয় পক্ষের সাথেই কথা বলা হয়েছে এবং ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বিভাগীয় শিক্ষকরাও বিষয়টি তদারকি করছেন। তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”