রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতি ও সৌদিয়া পরিবহনের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে রাঙ্গামাটির সাথে সারা দেশের সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই ধর্মঘট শুরু করে মালিক সমিতি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ফলে রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
দ্বন্দ্বের মূলে ‘টোকেন ফি’ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের মূলে রয়েছে রাঙ্গামাটি-ঢাকা রুটে সৌদিয়া পরিবহনের দুটি নতুন বাসের চলাচল। রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির অভিযোগ, সৌদিয়া পরিবহন তাদের এই বাসগুলোর জন্য সমিতিতে নির্ধারিত ‘টোকেন ফি’ জমা দিচ্ছে না। এই বিরোধের জেরে গত বুধবার মালিক সমিতির লোকজন সৌদিয়া কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হলেও মালিক সমিতি আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধের ডাক দেয়।
ভঙ্গ হয়েছে সমঝোতার আশ্বাস সৌদিয়া পরিবহনের রাঙ্গামাটি ব্যবস্থাপক আরমান হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েই তারা বাস পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, “গতকাল সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি জোনের সহায়তায় আমাদের কাউন্টার খোলা হয়েছিল এবং আগামী রোববার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু মালিক সমিতি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।”
তিনি আরও জানান, আজ সকালে ঢাকা থেকে আসা একটি এসি বাস রাউজানে আটকে দেওয়া হয় এবং যাত্রীদের সেখানে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়।
প্রশাসনের তৎপরতা হঠাৎ শুরু হওয়া এই ধর্মঘটকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেছে জেলা প্রশাসন। রাঙ্গামাটি জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য তারা কাজ করছেন।
সমস্যার সমাধানে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির কার্যালয় ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ তালুকদারও নিশ্চিত করেছেন যে, ওই সভায় আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ততক্ষণ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন শহরটি কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।