নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, গেটম্যানের সঙ্গে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিনসহ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের এই ক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের দায়িত্বে থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে গেটম্যানের কোনো যোগাযোগ ছিল না। গেট না নামানোর কারণে ‘মামুন পরিবহন’ নামে একটি বাস রেলক্রসিংয়ে উঠে গেলে ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হন এবং আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় বলেও জানা গেছে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই স্টেশন অতিক্রম করার পর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পান এবং তখন গেট নামিয়ে দেন। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, নিহত ১২ জনের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।