মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রচণ্ড তাপদাহে ক্লান্ত মানুষের জন্য স্বস্তি হয়ে আসে একফোঁটা বৃষ্টি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা প্রশান্তি ফিরলেও, সেই বৃষ্টিই লোহাগাড়া সদরের দরবেশহাট ডিসি সড়কে রূপ নেয় জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে।
সকালের বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বিশেষ করে বটতলী স্টেশন সংলগ্ন ডিসি সড়ক এবং টেন টাওয়ারের সামনে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার পথচারী, স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন ও অসংখ্য দোকানপাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার যথাযথ পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
এ বিষয়ে একাধিক পথচারী জানান, “সামান্য বৃষ্টি হলেই এই সড়কে হাঁটা যায় না। পানি জমে থাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। প্রতিদিনই আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধানে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভবন নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি উপেক্ষা করাই এ সমস্যার মূল কারণ। ভবন মালিকরা নিজস্ব সুবিধার কথা চিন্তা করে জায়গা ভরাট ও ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সড়কে।
এদিকে, রাতের পর রাত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ মানুষ দিনের বেলায় এই জলাবদ্ধতার কারণে আরও বিপাকে পড়ছেন। কর্মব্যস্ত মানুষ ঘুমের অভাবে ক্লান্ত, তার উপর সড়কের এই বেহাল অবস্থা তাদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা এলাকার সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং উপজেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।
সচেতন মহলের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অবৈধ দখলমুক্ত খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং ভবন নির্মাণে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ। অন্যথায়, সামান্য বৃষ্টিই ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ভোগ ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।