বাঘারপাড়া সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কের দুই পাশে শতাধিক গাছ কাটা ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সময় নির্বিচারে এসব গাছের মাথা, ডালপালা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গোড়াও কেটে ফেলা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির দুই পাশে সারি সারি মেহগনি, কাঁঠাল, নিম, বট, শিমুল, বাবলা, রেইনট্রি, বেল, খেজুর ও শিশু গাছের অনেকগুলোই আংশিক বা সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকের কাছে ঝড়ের পরবর্তী পরিস্থিতির মতো মনে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, উপজেলার পুনিয়ার বটতলা এলাকায় একটি উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাঘারপাড়া থেকে পুনিয়ার বটতলা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন এবং তার টানার সময় প্রায় ২০০টি গাছের ডাল, মাথা ও কিছু ক্ষেত্রে গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে ২৫ থেকে ৩০টি খুঁটি বসানো হয়েছে, যা মোট পাঁচ কিলোমিটারে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০টি খুঁটি। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা বলছেন, খুঁটিগুলো সড়ক থেকে অন্তত পাঁচ ফুট দূরে বসানো হলে গাছের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
উপজেলা বন বিভাগ জানায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সড়কের পাশে এসব গাছ লাগানো হয়েছিল এবং বর্তমানে গাছগুলো পূর্ণবয়স্ক। বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবদুল কুদ্দুস বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তাঁদের আগে জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি জানার পর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাড়াহুড়ার কারণে জানানো হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্যানচালক আলাউদ্দিন মোল্যা বলেন, আগে সড়কটি গাছের ছায়ায় আচ্ছাদিত ছিল, কিন্তু এখন গাছ কেটে ফেলায় রাস্তা রোদে উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক সোহানুর রহমান বলেন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, তাই গাছ কাটার দায় তাঁদের নয়। তবে যশোর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠু কুমার জানান, ঠিকাদারকে শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে ডাল কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গাছের মাথা বা গোড়া কাটার অনুমতি ছিল না এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সুফিয়ান বলেন, সড়কের খুব কাছে খুঁটি বসানোই মূল সমস্যার কারণ। কিছুটা দূরে বসানো হলে গাছ রক্ষা করা সম্ভব হতো এবং সড়ক ব্যবহারের সুবিধাও বাড়ত।