মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুটি যাত্রীবাহী মারছা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত যাত্রী। আহতদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি ফোরসিজন রেস্টুরেন্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের অভিযোগ, সংঘর্ষে জড়িত দুটি গাড়িই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। একটি গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল এবং অপরটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই ভয়াবহ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
নিহতদের মধ্যে রেহেনা বেগম (৬০) নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাথরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানুষ যখন আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় ব্যস্ত ছিল, তখন কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের মালামাল হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ডেপুটি বাজার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজ চললেও ওই বাঁকে কার্যকর ঝুঁকি নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বাঁকের একপাশ অতিরিক্ত সম্প্রসারণ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ (দোহাজারী অফিস) জানিয়েছে, প্রথমদিকে তারা স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করলেও পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ওই এলাকায় পুনরায় খনন ও সম্প্রসারণ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার, বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময় লুটপাটকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতা, আর অসহায় মানুষের মালামাল লুট করা চরম অমানবিকতা।