নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর শহরতলীর বিরামপুর ফকিরার মোড় এলাকায় একটি চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে চরম বিপাকে পড়েছে একটি দরিদ্র চা-দোকানি পরিবার। মামলায় সদ্য বিবাহিত মেয়ে ও জামাইকে আসামি করায় তাদের দাম্পত্য জীবন এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ের বাবা।
মামলার বিবরণ ও বাদী সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে ইব্রাহিম খলিল বর্তমানে বিরামপুর ফকিরার মোড় এলাকায় কামাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত ১৩ মার্চ দুপুরে তিনি বাসায় তালা দিয়ে শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন কালীতলা এলাকায় বেড়াতে যান। রাতে ফিরে এসে ঘরের দরজা ভাঙা এবং মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, শোকেজের ড্রয়ার থেকে দুটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া রুপার নূপুর ও একটি ওপো মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। ঘটনার দিনই তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন এবং ১৫ মার্চ মোবাইল হারানোর বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল ইব্রাহিম খলিল তার শ্বশুরবাড়ি এলাকার মিজানুরের মেয়ে জান্নাতের পায়ে চুরি যাওয়া নূপুরের মতো একটি নূপুর দেখতে পান। এছাড়া মোবাইলের জিডির সূত্রে রাজু নামের এক যুবককে শনাক্ত করেন। থানায় প্রতিকার না পেয়ে গত ১০ মে তিনি আদালতে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় বাসিন্দা রাজু, আব্দুল গফুরের ছেলে মিজানুর, তার মেয়ে জান্নাত এবং জামাই আলামিনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিল জানান, জান্নাতের পায়ে থাকা নূপুর এবং আলামিনের ব্যবহৃত একটি চেইন দেখে তিনি চুরির মালামালের সঙ্গে মিল পেয়েছেন। এছাড়া মিজানুরকে পরিবারের অভিভাবক হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসামি মিজানুর রহমান বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে তাকে, তার মেয়ে ও জামাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে চায়ের দোকান চালিয়ে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেড় মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। এখন মামলার কারণে জামাইয়ের পরিবার জান্নাতকে ঘরে তুলতে অনীহা প্রকাশ করছে, যার ফলে সদ্য বিবাহিত মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংসারের খরচ চালাতে তিনি চায়ের দোকানের পাশাপাশি ইজিবাইকও চালান। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ও মেয়ে দোকান সামলান।
স্থানীয় বাসিন্দারা মিজানুরকে সৎ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। চুরির ঘটনার পর প্রথমে থানায় অভিযোগ এবং পরে আলাদাভাবে মোবাইলের জন্য জিডি করার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বর্তমানে মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।