নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর সদর উপজেলার গহেরপুর খাজুরা এলাকায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন এবং সর্বশেষ গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, সতিন ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ আফসানা মিম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ মার্চ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে গহেরপুর খাজুরা এলাকার সুজন হোসেনের সঙ্গে আফসানা মিমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালে তার স্বামী তার অমতে সেলিনা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই স্বামী সুজন, দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা ও শাশুড়ি সবুরন নেছার প্ররোচনায় মিমের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আফসানা মিম তার বাবার জমি বিক্রির দুই লাখ টাকা স্বামী সুজনের হাতে তুলে দেন। সুজন ওই টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করার এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা করেননি। উল্টো কিছুদিন পর আবারও আরও দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে স্বামী সুজন ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে আফসানা মিমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরা হয়। মিমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মিমকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী মিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত স্বামী সুজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকারোক্তির সুরে ধৃষ্টতা দেখিয়ে তিনি বলেন, “স্ত্রীকে নির্যাতন করার জন্য আমার ১০ বা ২০ দিন জেল খাটতে হলেও আমি খাটব, তাও আমি খুশি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।